গুগল ডকস দিয়ে কোলাবরেটিভ রিসার্চ আর্টিকেল

একাধিক লেখক একসাথে কোন সায়েন্টিফিক আর্টিকেল লিখতে গেলে গুগল ডকস হতে পারে সবচেয়ে সহজ এবং এফিশিয়েন্ট মাধ্যম। এই আর্টিকেলে গুগল ডকস ব্যবহার করে আর্টিকেল লেখার কাজের ধারা বর্ণনা করব। এটি আমার কোলাবরেটরদের জন্য লেখা। তবে অন্য যারা কোলাবরেটিভ কাজ করেন এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করেন তাদের জন্যও কাজে দেবে।

যাদের জন্য এই লেখা

১। আপনি ফাইনাল আর্টিকেলটি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে তৈরী করবেন এবং জার্নালে সাবমিট করবেন
২। আপনি রেফারেন্স ম্যানেজার হিসেবে মেন্ডেলি (Mendeley) বা এন্ডনোট (EndNote) বা সেরকম কোন সফটঅয়্যার ব্যবহার করবেন
৩। একাধিক অথর একসাথে লিখবেন এবং রিয়েল টাইমে সংযোজন/বিয়োজন করবেন

যাদের জন্য এই লেখা নয় 

১। যারা LaTeX দিয়ে পেপার তৈরী করবেন
২। যে আর্টিকেলে আপনিই একমাত্র অথর এবং কোলাবরেট করছেন না বা কোলাবরেট করলেও আপনি একাই আর্টিকেলটি প্রস্তত করছেন

যা যা দরকার হবে

১। গুগল ডকস
২। আর কিছু নয়

সুবিধা

১। বারবার ইমেইল চালাচালি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে
২। ডকুমেন্টের সকল অথরের সকল পরিবর্তন ট্র্যাক করা যাবে (অটোমেটিক্যালি রঙিন ফন্টে দেখাবে)
৩। পুরো ভার্সনে ফিরে যাওয়া যাবে
৪। কারো এডিট গ্রহণ করা বা বাতিল করা যাবে

নিচে ধাপগুলো দেখানো হলো

১। গুগল ড্রাইভে যান। আপনার জিমেইল লগিন করা থাকলে উপরে ডানদিকে ওয়াফল (waffle) আইকনে ক্লিক করলে মেনু খুলবে। সেখান থেকে গুগল ড্রাইভে যান।

 

 

২। গিয়ে একটা ডক ওপেন করেন।

 

৩। এর পর প্রাথমিক কনটেন্ট দিয়ে নতুন ফাইলটি ভরে ফেলুন। আপনি চাইলে একদম শুরু থেকেও এডিট ট্র্যাক করতে পারেন। অথবা প্রাথমিক কনটেন্ট যোগ করার পর থেকে ট্র্যাক করতে পারে। আমি যেহেতু একটি ফাইল তৈরী করেছি এবং সেটা শেয়ার করবো সেজন্য দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করছি। ধরা যাক ফাইলটি এরকম–

 

 

৪। পাতার উপরের ডান কোনা থেকে Editing অংশে ক্লিক করুন। যদি Editing অপশন সিলেক্ট করা থাকে তাহলে পরিবর্তনগুলো অন্য অথর সহজে দেখতে পারবে না। পরিবর্তনগুলো সহজে দেখতে পাওয়ার জন্য আপনাকে Suggesting মোডে যেতে হবে। সেজন্য Editing অপশনে ক্লিক করে মেনু থেকে Suggesting সিলেক্ট করুন। এরপর আপনি কিছু এডিট করলে সেটি সাথে সাথে দেখা যাবে এবং ্কোলাবরেটররাও দেখতে পাবে।

 

৫। Suggesting সিলেক্ট করার পর আপনি মনে করুন শিরোনামটি পরিবর্তন করতে চাইছেন। দেখুন thinking of working অংশটি পরিবর্তন করে আপনি চাইছেন planning লিখতে। আমি সেটাই করেছি। যে কারণে পরিবর্তনটি আপনি সাথে সাথেই দেখতে পারছেন। আপনার কোলাবরেটরও এই পরিবর্তন দেখতে পাবেন। এভাবে ডকুমেন্টটি তৈরী করা হয়ে গেলে আপনি পরিবর্তনগুলো একটা একটা করে accept করবেন। দেখুন মন্তব্যের মতো পপ-আপটির উপরের কোণায় টিক চিহ্ন আছে। সেটি ক্লিক করলে পরিবর্তনটি accepted হয়ে যাবে। আর ক্রসে ক্লিক করলে বাতিল হয়ে যাবে।

 

 

৬। রেফারেন্স যেভাবে যোগ করবেন।

রেফারেন্স যোগ করার জন্য গুগল ডকস ভাল না। আমাদের কাজের ধারা অনুযায়ি পেপারটি তৈরী হয়ে গেলে মেন্ডেলি ব্যবহার করি এবং সেখানে রেফারেন্সগুলো ম্যানেজ করি। গুগল ডকসে রেফারেন্স ম্যানেজ করার জন্য একটা ভালো ্এ্যাপ আছে যেটি বছরে প্রায় ৩৬ডলার দিতে হয়। সেটি নিয়ে পরে একদিন লিখতে পারি।

মেন্ডেলিতে রেফারেন্স ম্যানেজ করার জন্য গুগল ডকস ফাইলটি ওয়ার্ড ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করতে হবে। তারপর আর্টিকেলের শিরোনাম দিয়ে মেন্ডেলির ভেতর থেকে পেপার খুঁজে সেটিকে সাইট করতে হবে। এই কাজটি সহজে করার জন্য গুগল ডকসে যখন আর্টিকেলটি লেখা হবে এবং সাইট করা হবে তখন সেটিকে মন্তব্য আকারে দিলে পরবর্তীতে বার বার স্ক্রল করে নিচে নেমে গিয়ে সেটিকে দেখতে বা কপি করতে হবে না।

ধরা যাক এই রেফারেন্সটি আমরা দিতে চাই– Autism: an emerging public health problem.,” Public Health Rep., vol. 118, no. 5, pp. 393–9, 2003। এজন্য প্রথমে গুগল স্কলারে গিয়ে সাইটেশনটি কপি করে নিন। তারপর গুগল ডকসে গিয়ে সেটি মন্তব্য আকারে যোগ করুন।

৭। ডকুমেন্ট শেয়ার করার জন্য উপরের ডান কোনা থেকে নীল রঙের শেয়ার বাটনে ক্লিক করুন। তারপর যে ডায়ালগ বক্স আসবে সেখানে কোলাবরেটরের ইমেইল ঠিকানা লিখুন। কোলাবরেটর যেন ডকুমেন্টটি এডিট করতে পারে সেজন্য নিশ্চিত হোন যেন এডিট করার পারমিশন থাকে। চিত্র দেখুন।

৮। আপনি যার সাথে শেয়ার করবেন তিনি এবার একটি ইমেইল পাবেন। সেখান থেকে ক্লিক করে সরাসরি তিনি ডকুমেন্টে চলে আসবে পারবেন। আপনার কোলাবরেটর এখন ফাইলটি আপনার সাথে রিয়েল টাইমে এডিট করতে পারবেন। আপনি যদি এরকম ডকুমেন্ট পেয়ে থাকেন তবে কাজ শুরু করার আগে নিশ্চিত করে নিন যে Suggesting অপশন এনাবল করে নিয়েছেন। যদি এনাবল না করেন তাহলে কোলাবরেটর কিন্তু রিয়েল টাইমে পরিবর্তনগুলি দেখতে পাবেন না। তবে ভার্সন হিস্টোরি পরিবর্তনগুলো দেখা যাবে যেটি এই আর্টিকেলের উদ্দেশ্যের বাইরে।

সারাংশ

যা যা করবেন

১। সবসময় Suggesting মোডে কাজ করুন। এমনকি আপনি একা একা কাজ করলেও। এতে করে পরিবর্তন গুলো আপনি ট্র্যাক করতে পারবেন।
২। রেফারেন্স ম্যানেজ করার জন্য সফটঅয়্যার ব্যবহার করুন। মেন্ডেলি ফ্রি তে পাওয়া যায়।
৩। সাইটেশনগুলো মন্তব্য আকারে দিন। তাহলে মেন্ডেলি ব্যবহার করার সময় সাইটেশনটি মাউসের কাছেই থাকবে।
৪। ম্যানুসক্রিপ্ট ফাইনাল করার পরেই কেবলমাত্র মেন্ডেলি দিয়ে রেফারেন্স ম্যানেজ করুন। ওয়ার্ড ফাইল যদি গুগল ডকস-এ নেন তাহলে মেন্ডেলির রেফারেন্স ট্যাগগুলো কাজ নাও করতে পারে।
৫। কোলাবরেটরদের সাথে শেয়ার করার সময় লক্ষ্য রাখুন তাদের এডিট পারমিশন যেন থাকে। যদি শুধু ভিউ করার জন্য দেন তাহলে সেটি সিলেক্ট করুন।

যা যা করবেন না

১। Editing মোড-এ কাজ করা। এতে করে পরিবর্তনের হাইলাইটগুলো দেখা যাবে না।
২। সাইটেশন ইনসার্ট করার জন্য নাম্বার বা (অথর,ইয়ার) স্টাইল ব্যবহার। এতে করে আপনাকে বারবার ডকুমেন্টের নিচে গিয়ে রেফারেন্স আর্টিকেলের টাইটেল আপনাকে কপি করতে হবে।

আশা করি এটি কাজে লাগবে। যদি কোন ভুল পাওয়া যায় বা কোন পরামর্শ থাকে তাহলে অনুগ্রহ করে মন্তব্যে জানিয়ে দিন।

স্থায়ী লিংক

http://wp.me/p85dFo-3s

ফেইসবুক কমেন্ট

wavatar

ড. এনায়েতুর রহীম

পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করছি প্রায় দুই দশক। কর্মজীবন শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে। বর্তমানে আমেরিকায় ড্যাটা সাইন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছি ক্যারোলাইনা হেলথকেয়ার সিস্টেমে। তরুণ পরিসংখ্যানবিদদের জন্য পরিসংখ্যান নিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করি। পরিসংখ্যানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করা যাবে। যোগাযোগ করতে উপরের Contact লিংক ব্যবহার করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *