Collaborative Research Bangla Wordcloud

কোলাবরেটিভ গবেষণা কাজের আহবান

পড়।

লেখাটি শুরু করছি গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ দিয়ে– পড়।

প্রশ্ন হলো কেন পড়তে হবে? পড়তে হবে কারণ পড়া থেকে বোঝা এবং জানা। দেখা থেকে লেখা যায়। দেখা থেকে শেখা যায়। সেটি জ্ঞান অর্জনের এক ধরনের পদ্ধতি। পড়া থেকে শেখা হলো আরেক ধরনের শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জনের পথ। পড়ার মাধ্যমে অন্যেরা কী বলে গেছেন বা কী অর্জন করেছেন সেগুলো আমরা শিখতে পারি। তাদের অর্জিত জ্ঞান নতুন করে আবিষ্কার না করে বরং পড়ে সেটি শিখি। যে কারণে আমাদের পাঠ্য বই দরকার হয়। আর সে কারণেই পড়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করছি।

এই লেখাটিও তাই গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।

আগের লেখায় কোলাবরেটিভ গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে লিখেছিলাম। আজকের লেখাটিতে পাঁচটি নতুন কাজের উদাহরণ দেব। এই কাজগুলি করতে গেলে কিছুটা দ্ক্ষতা দরকার হবে। কী কী দক্ষতা থাকতে হবে সেগুলোও আমি উল্লেখ করবো। সেজন্যই মনোযোগ দিয়ে লেখাটি পড়ার আহবান করছি।

লেখাটি যাদের জন্য

এই লেখাটি নতুন/পুরাতন এবং আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রী যারা গবেষণায় হাতে খড়ি নিতে কিংবা গবেষণার কাজ এগিয়ে নিতে চায় তাদের জন্য। যে সমস্যাগুলো আমি এখানে দিবো সেগুলো যদি আপনি করা শুরু করেন তাহলে বুঝতে পারবেন আপনার টেকনিক্যাল দক্ষতার লেভেল কোথায় আর কীভাবে আপনাকে ইনপ্রুভ করতে হবে। কিছু কিছু সমস্যা আমি উল্লেখ করবো যেগুলো গবেষণায় যারা ইতোমধ্যে অভিজ্ঞ তাদের জন্য উপযোগী হবে।

নীচে ইন্টারেস্টিং কিছু কাজের আইডিয়া দিচ্ছি। এই কাজগুলো করে কোন জার্নালে পাবলিশ করা হয়তো যাবে না কিন্তু সে ধরনের কাজ করার জন্য আপনাদের প্রস্তত করতে সহায়ক হবে।

সমস্যা ১: বাংলাদেশের আদমশুমারির ডেটা নিয়ে কাজ করা

অডিয়েন্স: বিগিনার

আপনি হয়তো জানেন না যে বাংলাদেশের সর্বশেষ আদমশুমারির ডেটা এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। এই লিংকে গেলে ডেটা পাবেন।লিংকের Population & Housing সেকশন থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা নানা ভাবে তৈরী করে এক্সেল ফরম্যাটে ডাউনলোড করা যাবে। একটু সময় নিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন ডেটাগুলো দিয়ে কত মজার তথ্য বের করে আনা যাবে। যেমন —

  • আদমশুমারি অনুযায়ি বাংলাদেশের জেলা বা বিভাগভিত্তিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বা শতকরা সংখ্যা কত?
  • জনবসতির ঘনত্বের সাথে জেলাগুলোতের বেকরত্বের হারের কোন সম্পর্ক আছে কিনা?

এরকম আরো অনেক তথ্য আমরা সহজেই বের করতে পারি এবং সেগুলো ভিজুয়ালাইজ করে প্রকাশ করতে পারি। এতে করে নিজের কাজের একটা প্রদর্শনী হবে সেই সাথে ডেটা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন হবে।

সমস্যা ২: বাংলা ব্লগের হালচাল

অডিয়েন্স: এডভান্সড

এই সমস্যাটি একটু এডভান্সড গবেষকদের জন্য উপযোগি হবে। ১০ বছর আগেও একটা সময়ে বাংলা ব্লগের জোয়ার এসেছিল। এখন সেরকম জোয়ার নেই। এর একটা কারণ হতে পারে ফেইসবুক। আগে যখন ব্লগে লিখতো তখনকার চেয়ে ফেইসবুকের মানুষ বেশি ইন্টাড়্যাক্টিভিটি পাচ্ছে। যে কারণে হয়তো ব্লগে লেখা অনেক কমে গেছে।

এই যে কমে যাওয়া এটা কীভাবে হয়েছে কত সময় ধরে হয়েছে তার ট্রেন্ড জানা একটি মজার প্রজেক্ট হতে পারে। এজন্য কোন একটি জনপ্রিয় ব্লগ বাছাই করে অটোমেটেড স্কৃপ্ট লিখে প্রতিটি পোষ্টের তারিখ সংগ্রহ করে প্রতি সপ্তাহে কয়টি করে পোস্ট প্রকাশিত হয় তার একটি টাইম সিরিজ বের করা যেতে যেতে পারে। এই খুবই ইন্টারেস্টিং ্একটি কাজ হবে।

এরকম কাজ একটি ব্লগের জন্য করে সেটিকে আরো কয়েকটি ব্লগের উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে। কয়েকটি ব্লগ থেকে তখ্য সংগ্রহ করা গেলে সেগুলোর তুলনামুলক একটা চিত্র নিয়ে জার্নালে প্রকাশউপযোগি আর্টিকেল তৈরী করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এরকম ডেটা সংগ্রহ করার জন্য খুব সাবধান থাকতে হবে। সাইটের এডমিনরা অটোমেটেড স্কৃপ্ট ব্লক করে দিতে পারে। সেজন্য বিশেষ ধরনের পদ্ধতিতে ডেটা সংগ্রহ করতে হবে যাতে তাদের সার্ভারের উপর অযাচিত চাপ না পড়ে।

সমস্যা ৩: গবেষণা কাজে বিশ্বের দেশগুলোর ড়্যাংক

অডিয়েন্স: বিগিনার

Scimago জার্নাল বিশ্বের দেশগুলোর ড়্যাংক প্রকাশ করে। লিংকে গেলে দেখা যাবে দেশগুলোকে নানা ভাবে ড়্যাংক করা যায়। নানা বিষয়ের প্রকাশিত আর্টিকেলের সংখ্যা এবং আরো কিছু মেট্রিকের ভিত্তিতে এরা ড়্যাংক প্রকাশ করে। ওদের সাইট থেকে ডেটা সহজেই ডাউনলোড করা যাবে। এরপর অনেক মজার ভিজুয়ালাইজেশন করা যেতে পারে। এই প্রজেক্টটি বাংলাদেশের আদমশুমারির প্রজেক্টের কাজের সাথে মিল আছে।

সমস্যা ৪: বিশ্বের দেশেগুলিতে হলিডে এবং হলিডেগুলো যে কারণে পালন করা হয়

অডিয়েন্স: বিগিনার বা মাঝামাঝি এডভান্সড

বিশ্বের নানা দেশে হলিডেগুলো নানা কারণে হয়ে থাকে। আমার হাইপোথিসিস হলো হলিডেগুলোর বেশীর ভাগই ধর্মীয় কারণে। সেকুলার হলিডেও আছে তবে সেটা সম্ভবত নগন্য। এই হাইপোথিসিস পরীক্ষা করার জন্য নানা দেশের হলিডে এবং সেগুলো কী কারণে পালন করা হয় সেই তথ্য যোগাড় করতে হবে। এই কাজটি মডার্ণ ডেটা সায়েন্সের কাজের সাথে যায়। এখানে data aggregation থেকে শুরু করে ভিজুয়ালাইজেশনের কাজ করার সুযোগ আছে।

সমস্যা ৫: স্ট্রোক সিমুলেশন

অডিয়েন্স: এডভান্সড

আমেরিকায় আনুমানিক ২.৫% থেকে ৫% মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশের কী অবস্থা আমার জানা নেই। এরকম কোন রিলায়াবল স্ট্যাটিসটিক্স আছে বলে আমি জানি না। থাকতেও পারে। তবে এই কাজটির জন্য আমাদের স্ট্রোকের প্রকৃত শতকরা সংখ্যা না জানলেও চলবে। এখানে আমরা স্ট্রোক ইভেন্ট সিমুলেট করবো। সিমুলেট করা মানে হলো বাস্তবের কোন ইভেন্টকে আমরা কম্পিউটার মডেলের মাধ্যে দেখার চেষ্টা করবো। আমি সিমুলেশনকে এভাবে বর্ণনা করি —

Simulation: observing a real system without really observing it.

এই ধারণা মোতাবেক আমরা একটি কাল্পনিক পপুলেশন থেকে স্ট্রোকের রোগীদের সিমুলেট করে কিছু ইভেন্ট পর্যবেক্ষণ করতে চাই। এই কাজের জন্য পরিসংখ্যানের সম্ভবনা বিন্যাসের ভালো ধারণা থাকতে হবে।

আমি আগ্রহী কিন্তু কীভাবে শুরু করবো?

ভালো কথা। আমি সত্যিই খুশি যে আপনি আমার সাথে কোলাবরেটিভ কাজ করতে চাইছেন। এর জন্য প্রথমেই এই লেখাটি ভালো করে পড়তে হবে। তার পর আমার সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আমার ইমেইল ঠিকানা raheem এট জিমেইল। কোন প্রজেক্টে কাজ করতে চান সেটি সুন্দর করে উপস্থান করে কেন এই কাজটি করতে চান সেটি আমাকে জানাতে হবে। এরকম কাজ করতে গেলে আপনার নিম্নলিখিত দক্ষতাগুলো দরকার হবে।

  • পরিসংখ্যানের ধারণা
  • সম্ভাবনা বিন্যাসের ধারণা
  • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর ধারণা (R বা Python)
  • ডেটা ভিজুয়ালাইজেশনের জন্য Tableau বা Power BI এর ধারণা (অপশনাল)
  • R এর ggplot2 প্যাকেজ কিংবা পাইথনের matplotlib বা seaborn প্যাকেজে কাজ করার অভিজ্ঞতা
  • ভালো কাজে লাগানোর মতো সময় হাতে থাকা
  • ধৈর্য এবং নিয়মানুবর্তিতা
  • ইংরেজীতের ভাব প্রকাশের দক্ষতা

এই কাজ করে আপনার কী লাভ হবে

  • নতুনরা গবেষণা শেখার সুযোগ পাবে
  • অভিজ্ঞরা কোলাবরেশনের সুযোগ পাবে
  • কাজের মান ভালো হলে সেখান থেকে জার্নালে পাবলিকেশন করার সম্ভবনা থাকবে
  • কষ্ট করে একটা কাজ করে সেটি পোর্টফোলিওতে রাখার সুযোগ হবে। আসছে দিনগুলোতে একাডেমিক ডিগ্রীর চেয়ে দক্ষতার মূল্য বেশী হবে। সে লক্ষ্যে যারা এখন থেকে কাজ করবে, এবং প্রোফাইল তৈরী করবে তারাই দ্রুত এগিয়ে যাবে। এটি আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি
  • বিদেশে পড়তে আসার সময় আমি রেকমেন্ডেশন করতে পারবো। উল্লেখ্য আমি শুধুমাত্র অনেস্ট রিভিউ দেই। কাজের কোয়ালিটি এবং পাবলিকেশনের মানের উপর নির্ভর করবে।

আজ এ পর্যন্তই থাক। পরবর্তীতে আরো কিছু আইডিয়া শেয়ার করবো। ভালো থাকুন।

পোস্টের স্থায়ী লিংক:

http://wp.me/p85dFo-2z

ফেইসবুক কমেন্ট
wavatar

ড. এনায়েতুর রহীম

পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করছি প্রায় দুই দশক। কর্মজীবন শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে। বর্তমানে আমেরিকায় ড্যাটা সাইন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছি ক্যারোলাইনা হেলথকেয়ার সিস্টেমে। তরুণ পরিসংখ্যানবিদদের জন্য পরিসংখ্যান নিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করি। পরিসংখ্যানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করা যাবে। যোগাযোগ করতে উপরের Contact লিংক ব্যবহার করতে পারেন।

2 thoughts to “কোলাবরেটিভ গবেষণা কাজের আহবান”

  1. স্যার , আমি আমার আবিস্কার কিভাবে প্রকাশ করতে পারি?
    গাণিতিক সূত্র।

    1. সূত্র যদি নতুন হয় তাহলে সেটি সাইন্টিফিক জার্নাল এ আর্টিকেল হিসেবে প্রকাশ করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *